ঢাকা , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬ , ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আয়নাঘরকে আড়াল করার জন্য যারা আলামত নষ্ট করেছেন, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না

আপলোড সময় : ০১-০৮-২০২৬ ০৫:১১:৪৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০১-০৮-২০২৬ ০৫:১১:৪৬ অপরাহ্ন
আয়নাঘরকে আড়াল করার জন্য যারা আলামত নষ্ট করেছেন, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না ফাইল ছবি
মাহবুবুল আলম,  কোর্ট  প্রতিনিধি:  রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১–এর সদর দপ্তরে থাকা গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর একটি প্রতিনিধি দল।
আজ শনিবার (১ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে পরিদর্শনে যান ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউশন টিম।
পরিদর্শন শেষে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, আয়নাঘর কোনো রূপকথা বা কল্পনা নয়, এটিই নির্মম বাস্তব। এই গোপন বন্দিশালায় ‘ডেথ সেল’ নামে পরিচিত মোট ২৯টি বিশেষ কক্ষের সন্ধান মিলেছে। আয়নাঘর গড়ে তোলার পেছনে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রত্যক্ষ দায় রয়েছে এবং তৎকালীন সরকারের মাধ্যমে শাসনব্যবস্থায় ফ্যাসিবাদের রূপ দেওয়া হয়েছিল।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন ও তোপের মুখে রাখা বিরোধীদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালাতে এই বন্দিশালা গড়ে তোলা হয়েছিল। এর সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি রাজনৈতিক ব্যক্তি, নেতা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে আয়নাঘরের আলামত ও প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
পরিদর্শনকালে জানানো হয়, বিএনপি নেতা ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও এই বন্দিশালায় গুম করে রাখা হয়েছিল।
প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এছাড়া প্রসিকিউশন টিমের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদী, সহিদুল ইসলাম সরদার, তাসমিরুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
এর আগে, গত ২১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ওই আবেদনে ডিজিএফআই, র‍্যাব ও ডিবির অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনের অনুমতি চাওয়া হয়। শুনানিতে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে এসব গোপন আস্তানায় বিরোধী মতাদর্শের মানুষদের তুলে এনে দিনের পর দিন নির্যাতন ও গুম করে রাখার বিস্তারিত তথ্য ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, নির্মম নির্যাতনের সেল সরাসরি দেখাতে বিচারপতিদের আনা হয়েছে। এটি মেমোরেন্ডাম হিসেবে আদালতের বিচারের একটি অংশ হবে। যারা আয়নাঘরকে আড়াল করার জন্য আলামত নষ্ট করেছেন, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ